মাদক ও জুয়ার প্রতিবাদ করায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া (সিঙ্গিমারী) গ্রামের বাসিন্দা ও লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ইন্সট্রাক্টর (রসায়ন) আরিফুল ইসলাম (৩৫) টানা ২১দিন অচেতন থাকার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ)তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে দেশের রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন চত্ত্বরে প্রথম নামাজে জানাজা শেষে মরহুমের লাশ বিকালে ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে লালমনিরহাটের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়। পরে রাত ১১টা ২০মিনিটে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া (সিঙ্গিমারী) গ্রামের নিজস্ব বাসভবনে তাঁর মরদেহ নেয়া হয়। এরপরের দিন রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় লালমনিরহাটের মোগলহাট ফুটবল খেলার মাঠে মরহুমের দ্বিতীয় নামাজের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের জানাযার আগে মরহুমের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, মরহুমের বাবা মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ। এ সময় ধর্মপ্রাণ মুসল্লীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানাযা নামাজ শেষে লালমনিরহাটের মোগলহাট জিরামপুর করবস্থানে মরহুমের লাশ দাফন করা হয়।
মৃত্যুকালে তিনি বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী, ১ছেলে, ১মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন ব্যক্তি/ সংগঠন শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম মানিক, সম্পাদক মাসুদ রানা রাশেদ, প্রকাশক রমজান আলী, নির্বাহী সম্পাদক হেলাল হোসেন কবির মরহুম আরিফুল ইসলাম-এঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম মাদক ও জুয়ার কুফল নিজ জন্মস্থান ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া (সিঙ্গমারী) গ্রামের মাদক ও জুয়া চক্রকে সতর্ক করেন এবং এসব থেকে সড়ে আসার আহবান জানান। এবং কথা না শুনলে থানায় পুলিশকে অবগত করা হবে এমন হুশিয়ারী দেন। এতে তার গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই গ্রামের হাসান আলী, মেহেদী হাসান, পারভেজ, মমিন মিয়া ও হৃদয় মিয়াসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে
গত ১ আগস্ট প্রতিদিনের মতো কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম। এ সময় আগে থেকে ওৎপেঁতে থাকা রহিদুলের নেতৃত্বে জুয়া চক্রটি দেশি অস্ত্রে শিক্ষক আরিফুলের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আরিফুলের মাথায় কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফুলকে উদ্ধার করে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাৎক্ষনিক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে টানা ২১দিন বেঁচে থাকার লড়াই করে শুক্রবার রাত ৮টায় মৃত্যুর কাছে হার মেনে না ফেরার পথে পাড়ি জমান কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম।
এ ঘটনায় শিক্ষক আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদি হয়ে পরদিন ২ আগস্ট রহিদুলকে প্রধান করে ১০জনের বিরুদ্ধে লালমনিরহাটের আদিতমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ৮জন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও পলাতক থাকা প্রধান অভিযুক্ত রহিদুলকে গত ১২ আগস্ট রাতে রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিল নয়াটোলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।